শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির নবীনবরণ

6 July 2017

Location: Uttara,Dhaka

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ‘নবীনবরণ-২০১৭’ গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় উত্তরার ৮ নং সেক্টরের পলওয়েল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির বোর্ড ট্রাস্টি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত, শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও অন্যতম সদস্য শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির বোর্ড ট্রাস্টি ডা. মো. আহসানুল কবীর, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী মো. মফিজুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আবদুস সালাম, রেজিস্ট্রার স্থপতি হোসনে আরা রহমান, ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আবদুল হালিম শেখ, ফাইন এন্ড পারফর্মিং আর্টসের ডিন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. জামান খান, ম্যানেজমেন্ট এন্ড জেনারেল স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মনোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ^বিদ্যালয় প্রক্টর ড. গোলাম মোস্তফা। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত বলেন, ‘যারা শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির সদস্য হয়েছ, তারা আমার সন্তানতুল্য, তোমরাই এ বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণ। আমি তোমাদের স্বাগত জানাই, প্রাণভরে দোয়া করি। তোমাদের আগমন শতভাগ সফল হোক। আজকে সত্যিকারের সময় এসেছে সবাইকে আপন করে নেয়ার। সবকিছু জানার অধিকার করে দিয়েছে অবাধ তথ্যপ্রযুক্তি।’ জনাব শান্ত বলেন, ‘যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, সেটা এখনো পূরণ হয়নি। জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ এখনো প্রতিষ্ঠা পায়নি, ঘটেনি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, হয়নি সাংস্কৃতিক বিকাশ। আমি আমার জীবনের সবকিছু দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সেই ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠা করতে প্রাণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে যে কর্মমুখী শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দূরশিক্ষণের কথা বলে আসছি, তা ইতোমধ্যে উপলব্ধি করতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে, আমরা সঠিক পথে ছিলাম ও আছি। আমাদের পাঠ্যসূচিও ছিল যুগোপযোগী। আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কেউ বেকার নেই। এটা আমাদের সফলতা, আমাদের স্বীকৃতি।’ প্রধান অতিথি দুঃখ করে বলেন, ‘আমরা এক হতভাগ্য জাতি। আমাদের বার বার পিছিয়ে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছে, হচ্ছে। আমরা বার বার যুদ্ধ করে এগিয়ে গিয়েছি। আমাদের অফুরাণ প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানবসম্পদের অধিকারী আমরা। আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান পৃথিবীর মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এত সম্ভাবনা সত্ত্বেও ধর্মান্ধ, প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির কারণে এ জাতি স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। এ জন্য নিরন্তর সাধনা করতে হবে। আমি তোমাদের মঙ্গল কামনা করি।’ ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আহসানুল কবীর নবীনদের উদ্দেশে বলেন, ‘শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে তোমাদের স্বাগত জানাই। এ বিশ^বিদ্যালয় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নিতে যে ক’জন বাঙালি সন্তান নিজের জীবনের সর্বস্ব ত্যাগ করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত তাঁদেরই একজন। তিনি সকল লোভ-লালসার ঊর্র্ধ্বে উঠে এ অঞ্চলে প্রথম সৃষ্টিশীল ও সাংস্কৃতিক বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। অনেক বাধাবিপত্তিকে পেছনে ফেলে তাঁর স্বপ্নের চারা গাছ আজ মহীরুহে বিস্তৃতি লাভ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এর সুফল ভোগ করছে এখন। তোমাদের পদভারে শান্ত-মারিয়াম বিশ^বিদ্যালয় একদিন দেশের সেরা বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে। তোমাদের জ্ঞান-আহরণ হোক-সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে।’ ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘এটি কেবল একটি নামসর্বস্ব বিশ^বিদ্যালয় নয়, এ অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক হিসেবে শান্ত-মারিয়াম বিশ^বিদ্যালয় আজ স্বীকৃত। বিশ^বিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে জ্ঞান সৃষ্টি করা। সাহিত্য-সংস্কৃতি-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি সর্বক্ষেত্রে এ বিশ^বিদ্যালয় দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাই আগামীর সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের জন্য তোমাদের প্রস্তুত হতে হবে। তোমরা জ্ঞান আহরণ কর, নিজেকে মেলে ধরো’। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আবদুস সালাম বলেন, ‘এটা একটা সৃষ্টিশীল বিশ^বিদ্যালয়। এখানে বাস্তবতার নিরিখে শিক্ষা দেয়া হয়। যা বাংলাদেশের আগামীর প্রেক্ষিত রচনায় ভূমিকা রাখবে। আগামী চারটি বছর তোমাদের সাধনা করতে হবে। যা তোমাদের বাস্তব জীবনের শুভ সূচনা করবে।’ প্রফেসর ড. আবদুল হালিম শেখ বলেন, তোমাদের জীবনযাত্রায় এটি একটি মাইলস্টোন অতিক্রম করছো। আগামীতেও তোমাদের আকাক্সক্ষাকে সফল করতে হবে। পরিশ্রম ছাড়া কেউ কখনো বড় হয়নি, হবেও না। যারা সাহস করে বলতে পারে, ‘পারবো’ কেবল তারাই সফল হবে। তোমরা একা নও, পুরো বিশ^বিদ্যালয় ও ফাউন্ডেশন তোমাদের সাথে আছে।’ প্রফেসর ড. জামান খান বলেন, স্বাধীনতোত্তর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম সারথিদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত। সংস্কৃতিবান মানুষই পারে সমাজকে বদলে দিতে। জনাব শান্ত এ বিশ^বিদ্যালয়কে সংস্কৃতি চর্চার চারণভূমিতে পরিণত করেছেন। এ শিক্ষা অর্জন করে তোমরাই জাগাও দেশ ও জাতিকে।’ প্রফেসর ড. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যারা উচ্চতর শিক্ষার জন্য এ বিশ^বিদ্যালয়কে বেছে নিয়েছ, তাদের অভিনন্দন জানাই। তোমাদের সিদ্ধান্ত ও লক্ষ্য একসাথে হাত ধরাধরি করে এগিয়ে যাবে।’ অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত ও তর্জমা করেন শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি ইসলামিক স্টাডিজের বিভাগীয় প্রধান মাওলানা মো. ইসহাক। এরপর নবাগত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে প্রদর্শিত হয় শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও বিশ^বিদ্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র। আলোচনা শুরু হয় ‘শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন থিমসং’ দিয়ে। অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি সময় উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী মো. মফিজুর রহমান বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন, ডিন, বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে মঞ্চে আসেন। পরিচিত হন নবীন শিক্ষার্থীদের সাথে। নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘র‌্যাফেল-ড্র’ ছিল বেশ উপভোগ্য। র‌্যাফেল-ড্র বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক, চিত্রশিল্পী অধ্যাপক নাসিম আহমেদ নাদভী এবং শান্ত-মারিয়াম ও সিআরআই কনফুসিয়ার্স ক্লাস রুমের চাইনিজ পরিচালক শিয়ে নান আকাশ। ভাগ্যবান ও ভাগ্যবতী ছয় শিক্ষার্থী পুরস্কার জিতে নেন। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল (অব.) আবসুস সালাম মিয়া, ডেপুটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক একেএম সিরাজুল ইসলাম ও জয়েন্ট প্রক্টর এম জহুরুল হক। আলোচনা শেষে শুরু হয় বিশ^বিদ্যালয় সঙ্গীত ও নৃত্য বিভাগ পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন এম. রেজওয়ানুল হক, সুরাইয়া শাকিলা শুক্লা ও তমা। নৃত্য পরিবেশন করেন বাবু, রুহি, কামরুল হাসান, শফিক ও ইনা। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ বক্তব্য প্রদান করেন বিশ^বিদ্যালয় রেজিস্ট্রার স্থপতি হোসনে আরা রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন ফিরোজ আহমেদ ইকবাল, শিল্পী সুরাইয়া শাকিলা শুক্লা ও অপ্সরা।