শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির দ্বিতীয় সমাবর্তন সম্পন্ন

27 November 2017

Location: Bashundhara convention city

নিজস্ব প্রতিবেদক

এ অঞ্চলের প্রথম ক্রিয়েটিভ বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির দ্বিতীয় সমাবর্তন গতকাল সোমবার বিকেল তিনটায় রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির ৪ নম্বর হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক, এমপি। সমাবর্তন বক্তা ও বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বিবদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, অধ্যাপক আবদুল মান্নান। আরো উপস্থিত ছিলেন শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত, ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী মো. মফিজুর রহমান ও রেজিস্ট্রার স্থপতি হোসনে আরা রহমান প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি দেশ ও জাতি গঠনে বিগত দেড় দশক ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আজ আপনাদের জন্য বিশেষ আনন্দের দিন। এই সাফল্যের জন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।

একই সাথে আপনাদের অভিভাবক ও শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও অভিনন্দন জানাই। তারা অনেক ত্যাগ ও শ্রম দিয়ে আপনাদের জন্য উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। আপনারা আজ কর্মজীবনে পা রেখেছেন। বাস্তব জীবনকে মেধা ও শ্রম দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে, তাহলে সফলতা আসবে। দেশপ্রেম সততা ও নিষ্ঠা দিয়ে সব জয় করতে হবে। আপনাদের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমাজের কম অগ্রসর মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবেন। শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণে শিক্ষার বিকল্প নেই। তোমরাই আগামীর নেতা।

শিক্ষাক্ষেত্রে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আপনারা আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন। নতুন প্রজন্মকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে জ্ঞানদান ও গবেষণার ধারা অব্যাহত রাখা, এ বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদাভাবে দেখি না, তারা সকলে আমাদের সন্তান। শিক্ষার পরিবেশ ও মান-উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্‌বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, যারা আজ জীবনের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, তাদের অভিনন্দন জানাই। আজ আপনাদের জন্য মহানন্দের দিন। দীর্ঘ সময় ধরে আপনারা এ সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির প্রতি অবিচার করা হয়েছে। বায়ান্ন, বাষট্টি, ঊনসত্তর, সত্তর ও একাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেতৃত্ব দিয়ে আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করাই আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির সকল শিক্ষার্থী এ কাজে ব্রতী হবেন, এ আশাবাদ ব্যক্ত করি। আপনারাই এদেশকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাবেন।

শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক, মানবিক প্রতিষ্ঠান। আমি বেশ কিছুদিন থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছি। দেশ ও জাতি গঠনে এ বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য অবদান রেখে চলেছে। এজন্য কর্তৃপক্ষ বিশেষত এর স্বপ্নদ্রষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্তকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, এদেশের তরুণদের অনেক সাফল্য এখন শুধু আমাদের গর্বিতই করে না; অন্য দেশের তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে, যুক্তরাষ্ট্রের নাসায় তরুণ উদ্ভাবনী বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে, আর কম্পিউটার এনিমেশনে অস্কার পুরস্কার লাভ করে।

প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় নালন্দার শিক্ষক ছিলেন শিলভদ্র যাজি নামের একজন জ্ঞানতাপস, যার জন্ম এই ঢাকা জেলায়। বাঙালির নানা অর্জন সম্পর্কে অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘নানা ঐতিহাসিক কারণে সেই সোনালি যুগ বিলুপ্ত হয়েছিল, যা আবার তোমাদের হাত ধরে উঠে আসার প্রতীক্ষায় আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ‚মিকা সম্পর্কে প্রফেসর মান্নান বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি উৎসাহিত করা। শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছেন তারা এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ সজাগ এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

স্বাগত ভাষণে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত বলেন, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি এই অঞ্চলের ব্যতিক্রমধর্মী পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়েটিভ বিশ্ববিদ্যালয়। জাতির পিতা যে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, তা কেবল ভৌগোলিক স্বাধীনতাই ছিল না, সে স্বাধীনতা ছিল ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। মাত্র সতের বছর বয়সে জাতির পিতার ডাকে আমি সেই যুদ্ধে গিয়েছিলাম। জাতির পিতার সেই সোনার বাংলা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নিতে আমি শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করি। এই প্রতিষ্ঠানের পূর্ণতা দিতে আরও অনেক সহায়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। এ জন্য চারটি মূল পরিকল্পনাকে উপজীব্য করে আমরা পথ চলতে শুরু করি। মানবসম্পদের যথার্থ ব্যবহার, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার, দূরশিক্ষণ ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সন্তানেরা কর্মজীবনে অসামান্য সফলতার পরিচয় দিয়েছে। আমি সকলের সার্বিক সফলতা কামনা করি। আজ এ আনন্দের দিনে আমি তোমাদের জন্য প্রার্থনা করি। জীবনের সর্বক্ষেত্রে তোমরা যেন সফল হও। তোমরাই নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা। দেশপ্রেমই তোমাদের মূল শক্তি।

ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী মো. মফিজুর রহমান বলেন, শুরু থেকেই আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দেখে অভিভূত। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত অসীম সাহস, মেধা ও শ্রম দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তুলেছেন। যখন জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ঠিক সেই সময়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা। এটি একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। আজকে যারা সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা সকলেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত অংশীদার, ইতিহাসের অংশ। আমি সকলকে আন্তরিক অভিন্দন জানাচ্ছি।

চ্যান্সেলর পর্বে বিভিন্ন বিভাগের গ্রাজুয়েটদের ডিগ্রি ও কৃতী শিক্ষার্থীদের চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আমন্ত্রিত অতিথিদের ক্রেস্ট প্রদান এবং বক্তৃতার মধ্য দিয়ে এ পর্বটি সম্পন্ন হয়। এতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্থপতি হোসনে আরা রহমান। ভাইস চ্যান্সেলর পর্বটি পরিচালনা করেন শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী মো. মফিজুর রহমান। এতে বিভিন্ন বিভাগের গ্রাজুয়েটদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।

শেষপর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরিবেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা, যারা ইতোমধ্যে সঙ্গীত ও নৃত্যকলায় দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয় ‘ফ্যাশন শো’ দিয়ে। পরিবেশনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন এন্ড ডিজাইন বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী বেগম রাশিদা হামিদ।